রোমান্স আবেগের এমন একটি স্তর যেখানে দুজন মানুষ একে অপরের প্রতি যে মানসিকতা ধারণ করেন তার পরিচর্যা চালিয়ে যান। আর যখন দুজনের প্রতি কোনো তীব্র আকাঙ্ক্ষা, আগ্রহ ও আকর্ষণ অনুভব করেন তখন তার মাধ্যমে দুজনের কাম প্রকাশ পায়। এই দুই ধরনের আবেগের মিশেল ঘটলে যৌন আকাঙ্ক্ষার উদয় ঘটে। যৌনকর্ম খুবই সাধারণ ক্রিয়া। কিন্তু আবেগ-অনুভূতিতে ভরপুর। যৌনতায় পরিতৃপ্তি না আসলে ধীরে ধীরে আবেগে শূন্যতা দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞরা তাই পরিপূর্ণ সেক্সের পরামর্শ দেন। এই পরিপূর্ণতার জন্য ৩টি অত্যাবশ্যকীয় কাজের কথা জানিয়েছেন তারা।
১. যৌনতা নিয়ে দুজনের মধ্যে বিস্তারিত আলাপ প্রয়োজন। দুজনের মানসিকতা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে। নারীরা আবেগের দিক থেকে সঙ্গীকে কাছাকাছি অনুভব করলে যৌন আকাঙ্ক্ষা অনুভব করেন। আর পুরুষরা যৌনতাকে কাছে আসার উপলক্ষ বলে মনে করেন। যৌনতাকে কখনও লজ্জাজনক বলে ধরে নেওয়া যাবে না। যদিও লজ্জাকে এড়িয়ে যাওয়া বেশ কঠিন বিষয়। এ নিয়ে যত সমস্যা ও প্রশ্ন মনে রয়েছে তা নিয়ে খোলামেলা আলাপচারিতা করতে হবে। অনেক সময় এসব না জানার কারণে বা শঙ্কায় যৌনকর্ম একঘেয়ে হয়ে ওঠে। একে উপভোগ্য করে তোলা যায় না। ক্রমেই লজ্জা বা অস্বস্তিবোধ দুজনের ঘাড়ে চেপে বসে।
সম্পর্ক তখনই দারুণ ইতিবাচক হয়ে ওঠে যখন সঙ্গী-সঙ্গিনী অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে যৌনতা নিয়েও খোলামেলা মানসিকতা ধারণ করেন। একজন অপরকে নিয়ে যা চিন্তা করছেন বা চাইছেন তা স্পষ্ট করতে না পারলে অতৃপ্তি থেকেই যায়। আলাপচারিতা সেক্সের আগেও হতে পারে। আবার অবসরেও হতে পারে। সেক্সের পরও অনাকাঙ্ক্ষিত ও আকাঙ্ক্ষিত বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলা যেতে পারে।
২. বিশেষ উপলক্ষে সেক্স করার পরিকল্পনা করুন। এই পরিকল্পনা ব্যক্তিগতভাবে মনে মনে রাখবেন না। বলা হয়ে থাকে, স্বাস্থ্যকর ও অন্তরঙ্গ সেক্স তাই যা টেনশনমুক্ত ও সহজ। আধুনিক জীবন বিভিন্ন নিয়ম-নীতিতে নিয়ন্ত্রিত। এর মধ্যে সেক্সকে আনলে চলবে না। স্বতঃস্ফূর্তভাবে যৌনকর্মে আগ্রহী হতে হবে। এটা এক ধরনের চর্চা যার মাধ্যমে মানুষ আরো দক্ষ হয়ে ওঠে।
অন্যান্য কাজের দক্ষ মানুষদের মতো এর চর্চা চালাতে হবে। সফলতা অর্জন জরুরি। অন্য কাজে সফলতা লাভে যা করতে হয়, এখানেও তাই করতে হবে। বিশেষ কারণে কখন কোথায় কিভাবে সেক্স করবেন তা দুজন মিলে পরিকল্পনা করুন। এটি এক ধরনের উত্তেজনা ও রোমাঞ্চকর অনুভূতি যাতে দুজনই ভাসতে থাকবেন। আবার শুধু পরিকল্পনায় রাখবেন না। একে বাস্তবায়িত করতে হবে।
৩. পরিকল্পিত সেক্স মানে ইচ্ছাপূর্ণ সেক্স। এর অর্থ অবশ্য রুটিনমাফিক সেক্স নয়। কিন্তু পরিকল্পনা করেছেন মানে এতে দুজনই আগ্রহী ও ইচ্ছুক। দুজনের মধ্যে কামনাপূর্ণ কিছু মুহূর্ত সৃষ্টি হলে সময়টা উপভোগ্য হয়। এই মুহূর্ত ক্রমেই দুজনের যৌন আকাঙ্ক্ষাকে বৃদ্ধি করতে থাকে। এতে সেক্স হয় আরো উপভোগ্য। মূলত পরিকল্পনার মাধ্যমে যৌনতায় দুজনই অংশ নেন আগে থেকেই। দুজনের মধ্যে রোমান্টিক প্লট তৈরি হয়। ভবিষ্যতের আকাঙ্ক্ষা মেটাতে দুজনই মুখিয়ে থাকেন। এটাই যৌন আকাঙ্ক্ষার চিরন্তন রূপ।
পুরুষের স্তন ক্যানসার নিয়ে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, সম্প্রতি সারা
বিশ্বেই এই রোগে আক্রান্ত পুরুষের সংখ্যা বাড়ছে। অ্যানথ্রোপলিজক্যাল সার্ভে
অব ইন্ডিয়ার গবেষণায় বলা হয়, সমস্যার রেখচিত্রটা উপরের দিকে। পুরুষদের স্তন
ক্যানসার নিয়ে করা এই গবেষণায় উদ্বিগ্ন চিকিৎসকরাও।
বিস্ময়কর তথ্য হচ্ছে, পুরুষদেরও যে স্তন ক্যানসার হতে পারে এই কথাই জানেন
না অধিকাংশ মানুষ। সেজন্য অস্বাভাবিকতা দেখলে শুরুতেই চিকিৎসকের কাছে
যাওয়ার প্রয়োজনীয়তাও বোধ করেন না। তাদের জন্য গড়ে ওঠেনি কোনো ‘সাপোর্ট
গ্রুপ’।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সারা বিশ্বে যত স্তন ক্যানসারের রোগী পাওয়া যায়,
কিছু দিন আগে পর্যন্ত তার এক শতাংশ পুরুষ বলে জানা যেত। ইদানিং সেই
সংখ্যাটা দুই থেকে তিন শতাংশ হয়েছে। যে কোনও বয়সের পুরুষেরা স্তন ক্যানসারে
আক্রান্ত হতে পারেন। নারীদের স্তন ক্যানসারের মতো পুরুষদের স্তন
ক্যানসারের ক্ষেত্রেও পরিবেশগত এবং জিনগত কারণ রয়েছে। পরিবারে কারও স্তন
ক্যানসার হয়ে থাকলে সেই পরিবারে মেয়েদের পাশাপাশি পুরুষদেরও ঝুঁকি অনেকটা
বেড়ে যায়। এরই পাশাপাশি দেহের অতিরিক্ত ওজন, চর্বি জাতীয় খাবার বেশি খাওয়া,
হরমোনের ওষুধ খাওয়া, অতিরিক্ত ধূমপানও এই রোগের ঝুঁকি বা়ড়িয়ে দেয়।
চিকিৎসকদের মতে, পুরুষদের স্তনে যেহেতু টিস্যু কম, তাই টিউমার হলে তা সহজে
ধরা পড়ার সম্ভাবনা বেশি। কিন্তু অজ্ঞতার কারণেই বিষয়টি অগোচরে রয়ে
যাচ্ছে।শুধু সাধারণ মানুষ নয়, অনেক চিকিৎসকও জানেন না যে পুরুষদের স্তন
ক্যানসার হতে পারে। তাই অনেকের ক্ষেত্রেই রোগটা ধরা পড়ে দেরিতে। নারী ও
পুরুষদের স্তন ক্যানসারের উপসর্গ এক। অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি,
রেডিওথেরাপি, হরমোন থেরাপির মতো চিকিৎসা প্রক্রিয়া পেরোতে হয় নারীদের মতো
পুরুষদেরও। কিন্তু সচেতনতার অভাব সমস্যাটা বাড়িয়ে তোলে।


