গবেষণায় দেখা গেছে, শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় জীবন যাপন বহুগুনে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। ওই গবেষণার পর মানুষকে কম বসা এবং বেশি হাঁটার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই গবেষণায় দেখা গেছে, শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় জীবন যাপনের ফলে ডায়াবেটিসের মতো প্রাণঘাতি রোগও হতে পারে। আর তাছাড়া এর ফলে যে কোনো কারণে মৃত্যু ঝুঁকিও বেড়ে যায়। শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় জীবন-যাপনের প্রধান অভ্যাসগুলো হলো, দীর্ঘ সময় ধরে বসে থাকা, শুয়ে থাকা বা গা এলিয়ে দেওয়া; যখন কেউ জেগে আছেন, পড়ছেন, টেলিভিশন দেখছেন বা কম্পিউটারে কাজ করছেন। এসব ‘নিষ্ক্রিয় তৎপরতায়’ শক্তি ব্যায় হয় মাত্র ১.৫ এমইটি’র চেয়েও কম। হালকা গৃহস্থালী কাজ বা ধীরগতির অথবা অবসরকালীন হাঁটাহাঁটিতে সাধারণত ২.৫ এমইটি শক্তি ব্যয় হয়। আর মাঝারি থেকে তীব্রমাত্রার শারীরিক তৎপরতায় সাধারণত ৩.০ বা আরো বেশি এমইটি শক্তি ব্যয় হয়। তবে মাঝারি বা তীব্র শারীরিক তৎপরতার কারণে নিষ্ক্রিয়তার ফলে যে ক্ষতি হয় তা দূর হয় না। এমনকি শারীরিকভাবে যথেষ্ট সক্রিয় ব্যক্তিরাও যদি অধিক পরিমাণে নিষ্ক্রিয় সময় ব্যয় করেন তারাও হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার অত্যধিক ঝুঁকিতে থাকেন। গবেষকদের মতে, কেউ শারীরিকভাবে কতটা সক্রিয় থাকলেন তাতে একাধারে দীর্ঘ সময় ধরে নিষ্ক্রিয় থাকার কুফল দূর হয় না। বরং একাধারে দীর্ঘ সময় ধরে নিষ্ক্রিয় থাকার ফলে হৃদপিণ্ড ও রক্তের শিরা-উপশিরাগুলো অনিবার্যভাবেই ক্ষতির শিকার হয়। তবে শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার ফলে স্বাস্থ্যের ঠিক কতটা ক্ষতি হয় তা নির্ণয় করা সম্ভব নয়। এ কারণে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, ‘কম বসুন বেশি হাঁটুন’। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়শনের এর মতে, বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রায় বা ৭৫ মিনিট তীব্র মাত্রায় ব্যায়াম করতে হবে। তবে এক বা দুইদিনেই সব শরীর চর্চা না করে বরং প্রতিনিয়ত শারীরিকভাবে তৎপর থাকতে হবে।
পুরুষের স্তন ক্যানসার নিয়ে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, সম্প্রতি সারা
বিশ্বেই এই রোগে আক্রান্ত পুরুষের সংখ্যা বাড়ছে। অ্যানথ্রোপলিজক্যাল সার্ভে
অব ইন্ডিয়ার গবেষণায় বলা হয়, সমস্যার রেখচিত্রটা উপরের দিকে। পুরুষদের স্তন
ক্যানসার নিয়ে করা এই গবেষণায় উদ্বিগ্ন চিকিৎসকরাও।
বিস্ময়কর তথ্য হচ্ছে, পুরুষদেরও যে স্তন ক্যানসার হতে পারে এই কথাই জানেন
না অধিকাংশ মানুষ। সেজন্য অস্বাভাবিকতা দেখলে শুরুতেই চিকিৎসকের কাছে
যাওয়ার প্রয়োজনীয়তাও বোধ করেন না। তাদের জন্য গড়ে ওঠেনি কোনো ‘সাপোর্ট
গ্রুপ’।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সারা বিশ্বে যত স্তন ক্যানসারের রোগী পাওয়া যায়,
কিছু দিন আগে পর্যন্ত তার এক শতাংশ পুরুষ বলে জানা যেত। ইদানিং সেই
সংখ্যাটা দুই থেকে তিন শতাংশ হয়েছে। যে কোনও বয়সের পুরুষেরা স্তন ক্যানসারে
আক্রান্ত হতে পারেন। নারীদের স্তন ক্যানসারের মতো পুরুষদের স্তন
ক্যানসারের ক্ষেত্রেও পরিবেশগত এবং জিনগত কারণ রয়েছে। পরিবারে কারও স্তন
ক্যানসার হয়ে থাকলে সেই পরিবারে মেয়েদের পাশাপাশি পুরুষদেরও ঝুঁকি অনেকটা
বেড়ে যায়। এরই পাশাপাশি দেহের অতিরিক্ত ওজন, চর্বি জাতীয় খাবার বেশি খাওয়া,
হরমোনের ওষুধ খাওয়া, অতিরিক্ত ধূমপানও এই রোগের ঝুঁকি বা়ড়িয়ে দেয়।
চিকিৎসকদের মতে, পুরুষদের স্তনে যেহেতু টিস্যু কম, তাই টিউমার হলে তা সহজে
ধরা পড়ার সম্ভাবনা বেশি। কিন্তু অজ্ঞতার কারণেই বিষয়টি অগোচরে রয়ে
যাচ্ছে।শুধু সাধারণ মানুষ নয়, অনেক চিকিৎসকও জানেন না যে পুরুষদের স্তন
ক্যানসার হতে পারে। তাই অনেকের ক্ষেত্রেই রোগটা ধরা পড়ে দেরিতে। নারী ও
পুরুষদের স্তন ক্যানসারের উপসর্গ এক। অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি,
রেডিওথেরাপি, হরমোন থেরাপির মতো চিকিৎসা প্রক্রিয়া পেরোতে হয় নারীদের মতো
পুরুষদেরও। কিন্তু সচেতনতার অভাব সমস্যাটা বাড়িয়ে তোলে।


